Saturday, 1 July 2023

তাই ভক্তগণে বলে গুরুচাঁদ প্রভু,                শিক্ষা নিতে অলসতা করিওনা কভু 
বলামাত্র স্রোতে চলে প্রতি জেলা জেলা,     কে  কিভাবে প্রভু করে লীলা খেলা 
প্রভু বলে বিদ্যার অভাবে অন্ধ হয়ে সবে,     অন্ধকারে আছি পরে 
জ্বেলে দাও এল মোহো দূরে ফেলো,            আঁধার ছুটিবে দূরে 



কেবলমাত্র পরিশ্রমী, বিনয়ী ও মেধাবী ছাত্রই সফলকাম হয়। যাদের প্রতিভাজাত শক্তি আছে তারাও যদি যথেষ্ট অভ্যাস না করে , সহসা পূর্ণত্বের নিকটবর্তী হয়ে তারাও আবার পিছিয়ে পড়ে। তাই আমরা যেন আমাদের মনকে ফাঁকি না দিই। অধ্যবসায়, পরিশ্রম,শ্রদ্ধা ও পবিত্রতার কোনো বিকল্প নেই।  যে ছাত্র বিদ্যা কে সম্পূর্ণ নিজের করে তার অন্তর্নিহিত পূর্ণতার বিকাশ সাধন করতে পেরেছে সে-ই বিদ্যার অধীত বিদ্যার ব্যবহার করতে জানে ও পারে।


কক্ষণে ক্ষণে গুরুচাঁদ বলে ভক্ত ঠাঁই         কালের দোসর নিদ্রা সবে জানো তাই 
স্বল্পনিদ্রা জীবগণে সুখের কারণ                  অতিনিদ্রা জানিবেক মৃত্যুর লক্ষণ 


গৃহীব্যক্তি অতিরিক্ত নিদ্রা , আলস্য , দেহের যত্ন , ব্যায়াম, কেশবিন্যাস এবং আসনে বসনে আসক্তি ত্যাগ করবে। আহার, নিদ্রা, বাক্য , মৈথুন - এসকলই  পরিমিতভাবে করবে। তাকে যত্নপূর্বক বিদ্যা , ধন , যশ , ধর্ম উপার্জন করতে হবে। এবং অকপট, নম্র, বিচক্ষণ,বাহিরে অন্তরে শৌচসম্পন্ন ও সকল কর্মে উদ্যোগী ও নিপুন হবার চেষ্টা করতে হবে। গৃহস্থ অসদসঙ্গ, মিথ্যাবাক্য , হিংসা , অনিষ্টাচারণ , দুর্বৃত্তি,কলহ ও বৃথা শত্রুতা  পরিত্যাগ করবে।  নিজের  ক্ষতিও  সয়ে যাবে তথাপি কলহ করে অর্থলাভ ত্যাগ করবে। 


অর্থ কে অনর্থ ভাবি এতদিনে সবে          ধর্ম লভিবার চেষ্টা করিয়াছি ভবে 
অর্থশূন্য বাক্য যথা প্রলাপ বচন               অর্থশূন্য গৃহীজনে জানিবে তেমন 
অর্থ দেয় অন্নজল অর্থ দেয় প্রাণ         অর্থের সংহতি রহে জীবের কল্যাণ 
অতি যত্নে সবে অর্থ রাখো ঘরে ঘরে       সদ্ভাবে উপায় করো আনন্দে অন্তরে


গৃহী ব্যক্তি সদউপায়ে প্রথমত জ্ঞান ও দ্বিতীয়ত ধন  উপার্জনের জন্য প্রাণপণ চেষ্টা করতে হবে। ইহাই তাহার কর্তব্য।  সে যদি জ্ঞান ও অর্থ উপার্জনের জন্য চেষ্টা না করে।  তাকে দুর্নীতিপরায়ণ   বলতে হবে। সে যদি অলসভাবে জীবন যাপন করে এবং তাতেই সন্তুষ্ট থাকে তাকে অসদ প্রকৃতির বলতে হবে। 


যে জাতির ঘরে বিদ্যা নাহি ভরে  দুর্ভাগা জানিবে তারে 
ধন-মান বৃথা বিদ্যা নাহি যেথা    লোকে উপহাস করে 
বিদ্যার কারণে মুনি ঋষিগণে    তপস্যা করিল কত 
বিদ্যা ছিল বলে এই বিশ্বতলে     পৃথিবী সুন্দর এতো 



আরো বলি গৃহীজনে যে কর্ম সাধিবে     সন্তান-সন্ততিগণে বিদ্যা শিক্ষা দিবে 
বিদ্যাহীন নর যেন পশুর সমান             বিদ্যার আলোকে প্রাণে জ্বলে ধর্মজ্ঞান 
তাই সবকারে বলি যদি মান মোর         অবিদ্যান পুত্র-কণ্যা যেন নাহি থাকে ঘরে 
খাও বা না খাও  তাতে   দুঃখ নাই         পুত্র কন্যা শিক্ষা দাও এই আমি চাই 
বঙ্গদেশে তারই বার্তা গেলো অল্প কালে     দেশে দেশে স্কুল করে ভক্তের দলে 


পুত্র কন্যাকে বিদ্যা ও ধর্ম শিক্ষা দেওয়া পিতা-মাতার গুরু দায়িত্ব। এছাড়াও পুত্র-কন্যাকে যা উপদেশ দাওয়া হচ্ছে তা নিজের জীবনে পালন করা পিতা-মাতার অবশ্য কর্তব্য। এইভাবেই  নিজেদের মূল্যবোধ উন্নত করে পারিবারিক বোঝাপড়ার মাধ্যমে নৈতিক, সামাজিক, আধ্যাত্মিক ও চারিত্রিক সদগুনের বিকাশ ঘটানো সম্ভব। 

পর নারী মাতৃতুল্য মিথ্যা নাহি কবে                  পর দুঃখে দুঃখী সদা সচ্চরিত্র রবে 
পর পতি পর সত্যি স্পর্শ না করিবে করিবে        না ডাকে হরিকে হরি তোমাকে ডাকিবে 
দীক্ষা বৃথা করো বৃথা তীর্থ পর্যটন                 মুক্তি কিবা বৃথা কিবা করো সাধন ভজন 
দেহের ইন্দ্রিয় বেশ করেছে যে জন       তাঁর দর্শনে সর্বতীর্থ দর্শন 


বিদ্বান ব্যক্তি নিজ পত্নী বর্তমানে অন্য স্ত্রীকে স্ত্রীভাবে স্পর্শ করবে না। স্ত্রীলোকের সম্মুখে অপ্রিয় আচরণ ও অশিষ্ট বাক্য প্রয়োগ থেকে নিবৃত্ত থাকবে এবং অযথা নিজের বাহাদুরি জাহির করবে না। 



বিংশ বর্ষ বয়ঃক্রম শ্রী সুরেন্দ্রনাথ,   পত্রিকা চলনে ছিল অতি সিদ্ধ-হাত 
নিরলস জ্ঞানবান কার্যাধ্যক্ষ রূপে,   স্বজাতির সেবা করে অতি চুপে চুপে 


প্রাজ্ঞ ব্যক্তি নিজ যশ, পৌরুষের বিষয়, ওপরের কথিত গুপ্ত কথা এবং ওপরের উপকারার্থে তিনি যা করেছেন , তা সাধারণের কাছে প্রকাশ করবে না। কর্ম করা অথচ ফলাকাঙ্খা না করা, লোককে সাহায্য করা অথচ তার কাছ থেকে কোনো প্রকার কৃতজ্ঞতা প্রত্যশা না করা, সদ কর্ম করা অথচ তাতে নামযশ হলো বা না হলো, এই বিষয়ে একেবারে দৃষ্টি না দাওয়া- এটিই এই জগতে সর্বাপেক্ষা কঠিন ব্যাপার। জগতের লোক যখন প্রশংসা করে, তখন ঘর কাপুরুষও সাহসী হয়। সমাজের অনুমোদন ও প্রশংসা পেলে নির্বোধ ব্যক্তিও বীরোচিত কার্য করতে পারে, কিন্তু কারো স্তুতি-প্রশংসা না চেয়ে অথবা সেদিকে আদৌ দৃষ্টি না দিয়ে সর্বদা সৎকার্য করে প্রকৃতপক্ষে সর্বশ্রেষ্ঠ স্বার্থত্যাগ। 



দেহে বল প্রাণে বল    নাহি চাহে ফোলাফোলা 
পরম গুরুর ডাকে সবে দেয় সাড়া 
নাম রুচি জিবে দোয়া    মানুষেতে নিষ্ঠা দিয়া 
অসীম বীর্যের তেজে দেহমন গড়া 


গৃহী ব্যক্তি শত্রুর সমক্ষে শৌর্য-বীর্য অবলম্বন করবে এবং সদাচারী ব্যক্তি বর্গের সমীপে সর্বদা বিনীত থাকবে। নিন্দিত অসৎ ব্যক্তিদিগকে সম্মান দেবে না এবং সম্মানের যোগ্য ব্যক্তি গণের অবমাননা করবে না। 


যে শক্তি হরিচাঁদ দিয়ে গেছে সবে     সেই শক্তি হিন্দুগণে গ্রহণ করিবে 
সর্বজাতি সমন্বয় হবে তার মতে    ভাই-ভাই হয়ে সব চলিবে সে পথে 



কিবা নামে , কিবা  প্রেমে , কিবা কর্মে, কি বিশ্রামে     কোনগুনে হীন নহে মতুয়ারগণ 
রামকৃষ্ণ যাহা করে তাহা আজি ঘরে ঘরে      করিছে  মতুয়া সবে পতিত তারণ। 






 

স্বাস্থ্যহীন জাতি নাহি পায় গতি    আত্মশক্তি করো রক্ষা 
শিক্ষা স্বাস্থ্য পেলে অজেয় ভূতলে     আর কিবা লাগে ভিক্ষা 

অসংযত ইন্দ্রিয়াদি আনিয়াছে মহাব্যাধি 
ভোগতৃষ্ণা পথে 
ভোগ আনে মহাভোগ দারুন বিষয় যোগ 
ঘিরেছে জাগতে 


শিক্ষা শেষে এই ভাব এসেছে অন্তরে   বিদ্যার সমান ভ্রাতা নাহিক সংসারে 
এই নমঃশূদ্র জাতি বিদ্যাহীন দোষে 
দলিত ঘৃণিত হয়ে আছে বঙ্গদেশে 
 মনে মনে আমি তাই করিলাম ঠিক 
যদি কিছু পেয়ে থাকি স্বজাতি তা নিক। 

শয়ন  ভোজন আর পুত্র-কন্যা জন্ম      তোদের জীবনে মাত্র দেখি এই ধর্ম 
না মানিলি গুরুবিষ্ণু না হোলি বিদ্বান    তোদের জীবনে বাপু কেন এত টান 
ইতর পশুরা আছে বেঁচে এই ভাবে      তোরাও তাদের মতো কাজে কি স্বভাবে 
এমন জীবনে বোপল বেঁচে কিবা ফল    আকারে মানুষ বটে পশু একদল। 



   

















No comments:

Post a Comment